― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বিশেষ সুবিধা হারালেন এমপিরা; সংসদে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিল বাতিল

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করে সংসদ সদস্যদের (এমপি) দীর্ঘদিনের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেম্যুনিউরেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ সংশোধনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে কোনো আলোচনা বা সংশোধনী ছাড়াই এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সাধারণ নাগরিকের মতোই কর প্রদান করে গাড়ি সংগ্রহ করতে হবে।

এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময়। সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তারা নির্বাচিত হলে শুল্কমুক্ত গাড়ির মতো বিলাসিতা বর্জন করবেন। নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই এই সুবিধা না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে, বিরোধী দল কেবল শুল্কমুক্ত গাড়িই নয়, বরং সরকারি প্লট না নেওয়ার বিষয়েও পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অটল থাকে। বিলটি পাসের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের ‘৩সি’ ধারাটি চিরতরে বিলুপ্ত করা হলো।

একই অধিবেশনে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিরসনে কার্যকর সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কমিটি গঠনে ঐকমত্য পোষণ করেন। আজ চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এই কমিটির নাম প্রস্তাব করলে সংসদ তা অনুমোদন করে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এবং কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য হ্রাসের একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নতুন ধারার প্রতিফলন। বিশেষ করে এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্যের অন্তর্ভুক্তি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্যের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও জোরালো করেছে।