― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

জমি বিরোধের জেরে ঈদের সকালে একই পরিবারের বাবা ও দুই ছেলেকে কুপিয়ে জখম

ঝালকাঠিতে পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসবের সকালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিন্নাপাড়া গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও সীমানা বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের বাবা ও দুই ছেলেসহ তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ঈদের জামাতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় বিন্নাপাড়া গ্রামের একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। বর্তমানে আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ভুক্তভোগীরা হলেন—বিন্নাপাড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হেলাল খান (৭৫), তাঁর বড় ছেলে সোহেল খান (৪০) এবং ছোট ছেলে রানা খান (৩০)। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হেলাল খানের মেজো ছেলে বাবু খানের মালিকানাধীন ভোগদখলীয় জমির কলাগাছ ও সীমানার কাঁটাতারের বেড়া প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক কেটে ফেলছে—এমন খবর পেয়ে হেলাল খান তাঁর দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার প্রভাবশালী সোহাগ মীর, তাঁর ছেলে তুষার মীর এবং মেয়ে তিশা আক্তার মিলে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও রামদা দিয়ে হেলাল খান ও তাঁর দুই ছেলেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। হামলার সময় চিৎকার শুনে আশপাশের বাড়ির লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে রক্তাপ্লুত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মাথা, হাত ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে গভীর ও মারাত্মক কোপের চিহ্ন রয়েছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোপাল শীল সাংবাদিকদের জানান, “একই পরিবারের আহত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেলাই দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তাঁদের শরীরে থাকা আঘাতগুলো অত্যন্ত ধারালো ও ভারী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।” এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।