― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

সালিসের অপেক্ষায় থাকা ৩ তরুণকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত; ঢামেকে ১ জনের মৃত্যু, ঘরবাড়িতে আগুন

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে সালিসের জন্য অপেক্ষমাণ তিন তরুণকে অতর্কিতে ও নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করার এক বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) বিকেলের এই রক্তক্ষয়ী হামলায় গুরুতর আহত যুবকদের মধ্যে আশিক ভূঁইয়া (২৫) নামে এক তরুণ আজ শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত আশিক পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার সন্তান। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে মূল অভিযুক্তদের বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে অগ্নিসংযোগ করে। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী পারুলিয়া এলাকার ইউনুস আলীর দুই ছেলে সাগর ও সোহাগের সাথে নিহত আশিকের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধ চলছিল। এই পূর্বশত্রুতার রেশ ধরে গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে চরম কথা-কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত এই সামাজিক উত্তেজনা প্রশমন ও বিষয়টি শান্তিপূর্ণ মীমাংসার লক্ষ্যে উভয় পক্ষই গতকাল শুক্রবার বিকেলে পারুলিয়া ভূঁইয়া বাড়ির সামনে একটি স্থানীয় সালিস-বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করেছিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেলের দিকে দুই পক্ষের লোকজন এবং সাধারণ গ্রামবাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য সালিসকারীদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

ঠিক তখনই ঘটে সেই নির্মম ঘটনা। সালিসের অপেক্ষায় থাকার সুযোগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘাতক সাগর ও সোহাগের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হঠাৎ আশিকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা ধারালো ছুরি দিয়ে আশিকের শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় রক্তাক্ত আশিককে বাঁচাতে তাঁর দুই বন্ধু রুহুল আমিন ও মো. ইলিয়াস দ্রুত এগিয়ে এলে খুনিরা তাঁদেরও নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

রাতেই তিন তরুণকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ শনিবার ভোরে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে আশিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আশিকের মৃত্যুর খবর মাঝেরচর ও পারুলিয়া গ্রামে পৌঁছালে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গ্রামবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে খবর পেয়ে পলাশ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত সাগর ও সোহাগ সপরিবারে পলাতক রয়েছে। পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিস দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এই বর্বরোচিত খুনের ঘটনায় মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।