― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেয়েই সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নরসিংদীর মনোহরদীতে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশের নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল পরিষ্কার জানিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গঠিত কমিটিকে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে সব ধরনের কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈদের দিন সকালে নরসিংদীর মনোহরদী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদের নামাজ আদায় শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “আজকের এই খুশির দিনে পুরো জাতির জন্য সবচেয়ে বেদনার খবর হলো গতকাল মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনা। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অনুরোধে ওয়ার্ডের এসি বন্ধ করার পর সম্ভবত এসি থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” তিনি আরও যোগ করেন, অন্য একটি রাষ্ট্রীয় পরিদর্শনে থাকার সময়ই তিনি এই মর্মান্তিক খবরটি পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে রোগীদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে একযোগে ছয়টি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর পর অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবিদার আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আড়ালে থাকা চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও বাণিজ্যিকীকরণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। ১৯৮০ সালে আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দীন ও অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি বর্তমানে ডা. শেখ মহিউদ্দীনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ডা. মহিউদ্দীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও আকিজ-বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেখ বশির উদ্দিনের ভাই। প্রতিষ্ঠানটি অলাভজনক দাতব্য ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত হওয়ায় কর থেকে বিশাল অব্যাহতির সুবিধা পেলেও গত ৪-৫ বছরে এখানে চিকিৎসার খরচ কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। আগে যেখানে সিজারিয়ান ডেলিভারি ৮-৯ হাজার টাকায় হতো, এখন তা নানা কৌশলে বিল বাড়িয়ে ৩৫ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক জাহেদ রায়হান বুধবার দুপুরে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শনের পর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, রাত ২টায় একজন অভিভাবকের অনুরোধে এসি বন্ধ করার পর ভোর ৪টা থেকে সকাল পৌনে ৭টার মধ্যে একের পর এক নবজাতকের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবণতি ঘটে। ১-২ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে ৬টি শিশু মারা গেল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ও টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা ইতিমধ্যেই মৃত শিশুদের ওয়ার্ডটি সিলগালা করে এসি ও ইলেকট্রিক ইকুইপমেন্ট নিয়ে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করেছেন। ভুক্তভোগী স্বজনদের দায়ের করা ফৌজদারি মামলার প্রেক্ষিতে হাসপাতালটির চিকিৎসকদেরও এখন পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।