― Advertisement ―

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই এগোবে আইন মন্ত্রণালয়; প্রথম দিনেই বড় অঙ্গীকার

বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পাহাড় সমান প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েছেন নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের...

জনগণের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের শঙ্কা; হকার পুনর্বাসন নীতিমালা নিয়ে আইনি নোটিশ

ঢাকা মহানগরীর জনসাধারণের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে রাস্তা ও ফুটপাত হকারদের নিকট বরাদ্দ দেওয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে এক ঐতিহাসিক রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। সম্প্রতি সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালার নির্দিষ্ট কিছু বরাদ্দ-সম্পর্কিত বিধান কেন দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) এক রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

এর আগে চলতি মাসের ৫ মে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ শিরোনামে একটি বিশেষ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন (Gazette) আকারে প্রকাশ করে। ওই সরকারি নীতিমালায় ঢাকা শহরের হকারদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠন, হকারদের ডিজিটাল নিবন্ধন প্রদান, নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন এবং নিবন্ধিত ব্যক্তিদের অনুকূলে রাস্তা বা ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য স্থান বরাদ্দ দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক গাইডলাইন যুক্ত করা হয়েছিল। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল হকারদের পুনর্বাসন করা, তবে এর আইনি ভিত্তি নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

প্রজ্ঞাপিত এই নীতিমালার ফুটপাত ও রাস্তা বরাদ্দ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট অংশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত রোববার (১৭ মে) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনি সওয়াল-জবাব করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রোকনুজ্জামান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। রিটকারীর আইনজীবীদের মূল যুক্তি ছিল, ফুটপাত ও সড়ক সম্পূর্ণভাবে জনসাধারণের সম্পত্তি, যা কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিস্বার্থে বা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে লিজ বা বরাদ্দ দেওয়া যায় না।

শুনানি শেষে আইনজীবী মো. রোকনুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, প্রজ্ঞাপিত নীতিমালার মাধ্যমে হকারদের রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়ার আইনি সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ (জনগণের সম্পত্তি রক্ষা) ও অনুচ্ছেদ ৩৬ (চলাচলের স্বাধীনতা) এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৩৭ এর সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফুটপাত বরাদ্দ দিলে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে পথ চলার সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হয়। আদালত এই রুলের জবাব দিতে স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।