রাজধানীতে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভবে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে চরম দিশাহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম। তাঁর ১৮ মাস বয়সী ছোট ছেলে আবদুল্লাহ রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, আর ছয় বছরের বড় ছেলে আলিফ হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে ডিএনসিসি হাসপাতালে। দুই হাসপাতালে দুই সন্তান চিকিৎসাধীন থাকায় সাইফুল ও তাঁর স্ত্রী সুমা আক্তার এখন শোকে ও দুশ্চিন্তায় মুহ্যমান। কামরাঙ্গীরচরের এই বাসিন্দা দুই হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে এখন ক্লান্ত ও নিঃস্ব।
ছোট ছেলে আবদুল্লাহর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ১০ দিন আগে জ্বরের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই রোগ দ্রুতই সারা শরীরে ফুসকুড়ি ও ঘায়ে রূপ নেয়। বর্তমানে শিশুটি অক্সিজেন ছাড়া শ্বাস নিতে পারছে না। পর্যাপ্ত আইসিইউ শয্যা না থাকায় দীর্ঘ সময় তাকে হাসপাতালের মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। আবদুল্লাহর মা সুমা আক্তার যখন ছেলের মুখের ঘায়ে পরম মমতায় ক্রিম লাগিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন অদূরেই দাঁড়িয়ে সাইফুল ইসলাম ভাবছিলেন বেসরকারি হাসপাতালের আকাশচুম্বী খরচের কথা। চিকিৎসকেরা আইসিইউর তাগিদ দিলেও অটোরিকশা চালিয়ে সেই খরচ মেটানো তাঁর পক্ষে অসম্ভব।
শুধু সাইফুলের সন্তানরাই নয়, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বর্তমানে অর্ধশতাধিক শিশু হাম ও এর জটিলতা নিয়ে ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড থেকে বারান্দা—সবখানেই অসুস্থ শিশুদের ভিড়। শয্যা সংকটের কারণে অনেক মা-বাবা মেঝেতেই সন্তানদের বিছানা পেতেছেন। কেউ নেবুলাইজার নিচ্ছে, কেউ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে আসা শিশুদের সংখ্যাই বেশি। নরসিংদী কিংবা লক্ষ্মীপুরের মতো দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক পরিবারই একাধিক হাসপাতাল ঘুরে শেষে এখানে এসেও কাঙ্ক্ষিত শয্যা পাচ্ছে না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত সহস্রাধিক শিশু চিকিৎসা নিলেও মৃতের সংখ্যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আগামী এক মাস পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামনেই পবিত্র ঈদুল আজহা, আর এই উৎসবের সময় শিশুদের স্থান পরিবর্তন ও মানুষের ব্যাপক যাতায়াত সংক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, একবার সেরে ওঠার পর দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। হামের এই ভয়াবহ থাবা থেকে সন্তানদের বাঁচাতে এখন সৃষ্টিকর্তার ওপরই ভরসা রাখছেন অসহায় সাইফুল ইসলামরা।



