পাকিস্তানের অশান্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় ফের রক্তক্ষয়ী জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) রাতে বান্নু জেলার ডোমেল তহসিল এলাকায় একটি পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে চালানো আত্মঘাতী কার বোমা হামলায় অন্তত ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই স্থাপনাটিই ছিল হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। এই বিস্ফোরণ পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী সজোরে পুলিশ স্টেশনে আঘাত হানে। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এর শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। বিস্ফোরণের পরপরই ওই এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। হামলায় অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় শুধু পুলিশ স্টেশনই নয়, বরং এর আশপাশের বেশ কিছু বসতবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন রাতের খাবার শেষে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই মরণঘাতী হামলা চালানো হয়। বর্তমানে পুরো ডোমেল এলাকা নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে রেখেছে এবং চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হামলা এবং এর পেছনে থাকা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত রাতের এই হামলা পুনরায় প্রমাণ করল যে, সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো কতটা প্রবল। নিহত সাধারণ নাগরিকদের পরিবারে এখন কান্নার রোল, আর এই অমানবিক হামলার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।



