ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম দিনে তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে ভুল বা ‘মিথ্যা’ তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তোলেন শফিকুর রহমান। তিনি শ্লেষ মিশিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপনের এক অপূর্ব দক্ষতার অধিকারী। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
বিতর্কের সূত্রপাত গতদিনের একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে। ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের নাম বদলে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর। তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অনুপস্থিতিতে আগের দিন তাঁর বক্তব্যকে ‘অসত্য’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এর জবাবে শফিকুর রহমান আজ বলেন, “বোতল পরিবর্তন করে মেটেরিয়াল ঠিক রেখে তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) চমৎকারভাবে সত্য-মিথ্যা পরিবেশন করতে পারেন।” স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) এ সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি পুরনো বলে উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে পাল্টাপাল্টি যুক্তি দেন। তিনি রুল-৬২ এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, বিরোধীদলীয় নেতার ওয়াকআউটের অনেক পরে বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, যা আগে আসার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি বিরোধীদলীয় নেতার ‘মিথ্যা’ শব্দ ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্পিকারকে অনুরোধ করেন শব্দটি এক্সপাঞ্জ (বিবরণী থেকে বাদ) করতে। তিনি বলেন, “অসত্য বললে আমি আপত্তি করতাম না, কিন্তু মিথ্যা শব্দটি এখানে অসংসদীয়।”
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পুনরায় স্পষ্ট করেন যে, বিভ্রান্তিটি মূলত একই বিষয়বস্তুর প্রস্তাব ভিন্ন ভিন্ন নামে উত্থাপন করা নিয়ে। একজন স্বতন্ত্র সদস্যের আনা প্রস্তাবের বিষয়বস্তু একই ছিল বলেই তিনি তা উল্লেখ করেছিলেন এবং তিনি কোনো ভুল তথ্য দেননি বলে দাবি করেন। দুই নেতার এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সংসদের পরিবেশ কিছু সময়ের জন্য সরগরম হয়ে ওঠে।



