ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবিকে ‘তুচ্ছ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না, বরং সামনে তাদের জন্য ‘বিধ্বংসী ও বিপর্যয়কর’ পাল্টা আঘাত অপেক্ষা করছে। তেহরানের দাবি, তাদের প্রকৃত সামরিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলো এমন সব গোপন স্থানে অবস্থিত, যে সম্পর্কে শত্রু দেশগুলোর বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ধারাবাহিক হামলায় ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এই দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে ইরানি ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তেহরানের প্রকৃত শক্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনের জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে চরম মূল্য দিতে হবে। ইরানের এই মারমুখী অবস্থান ওই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পারদ আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে এগিয়ে এসেছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তা কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।” বেইজিং মনে করে, আলোচনার মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের উত্তরণ সম্ভব।
চীন আরও অভিযোগ করেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার মূল কারণ ইরান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ’ সামরিক অভিযান। বেইজিংয়ের মতে, পশ্চিমা শক্তির ক্রমাগত উসকানি ও আগ্রাসনের ফলেই আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আজ অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। একদিকে তেহরানের পাল্টা আঘাতের হুমকি এবং অন্যদিকে বেইজিংয়ের যুদ্ধবিরতির আহ্বান—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক মহাসংকটের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।



