― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

‘কেন বাচ্চাগুলো হারালাম, কারো গাফিলতি ছিল কি না তদন্ত হবে’: স্বাস্থ্যসচিব

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব এবং টিকার তীব্র সংকটের মুখে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সরকার। শনিবার (৯ মে ২০২৬) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং এই প্রক্রিয়ায় কারো কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত এই বৈঠকে স্বাস্থ্যসচিব স্পষ্ট করেন যে, তদন্তের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কাজ করছি এবং তদন্তের ফলাফল দেশবাসীকে জানানো হবে।” যদিও তদন্ত কমিটির সদস্য কারা বা কবে নাগাদ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তবে শিশুদের জীবনহানির পেছনে প্রশাসনিক বা কারিগরি কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সেটিই এই তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচি (EPI) ভেঙে পড়ার আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। ভাইরাস বিশেষজ্ঞ এবং জনস্বাস্থ্যবিদরা মনে করছেন, সময়মতো টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারা এবং মাঠ পর্যায়ে তদারকির অভাবেই এই প্রতিরোধযোগ্য রোগটি এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা বর্তমান পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিশেষজ্ঞরা দেখান যে, গত কয়েক মাস ধরে হামের প্রকোপ বাড়লেও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণে ধীরগতি ছিল। সরকার এখন ১৫ লাখ টিকা আমদানির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও, কেন এই সংকট তৈরি হলো তা বের করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তদন্তের মাধ্যমে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, তদন্ত প্রতিবেদনটি সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বচ্ছতার সাথে উপস্থাপন করা হবে।