ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এক ভিডিওবার্তার মাধ্যমে জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল, এই ভিডিওবার্তাটি তা নাকচ করে দিয়েছে। তবে সরাসরি জনসমক্ষে না এসে ভিডিওর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়া নিয়ে এখনও অনেকের মনে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু মূলত ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এবং এর বিশাল ব্যয়ভার নিয়ে কথা বলেছেন। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক বিলিয়ন শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা) অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন।
নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা ছাড়া ইসরায়েলের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ কেবল অস্তিত্বের নয়, এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।” এই আর্থিক সংকট মেটাতে তিনি একটি ‘বিশেষ বাজেট’ ঘোষণার পরিকল্পনা করছেন। এই বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলায়।
এদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩৯ জনে। এদের মধ্যে ৯৫ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৯১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দেশটির সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের হামলা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
নেতানিয়াহুর এই ভিডিওবার্তা মূলত অভ্যন্তরীণ জনমতকে যুদ্ধের খরচের পক্ষে আনার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে মৃত্যুর গুঞ্জন উড়িয়ে দেওয়া এবং অন্যদিকে বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের যৌক্তিকতা তুলে ধরা—এই দুই উদ্দেশ্যেই তিনি ভিডিওর আশ্রয় নিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের এই বাড়তি সামরিক ব্যয় দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



