― Advertisement ―

“হামলাকারীর সহিংস অতীত ও হোয়াইট হাউজের প্রতি অস্বাভাবিক আসক্তি ছিল”; সিক্রেট সার্ভিসকে ট্রাম্পের স্যালুট

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত অতি সুরক্ষিত সরকারি বাসভবন ‘হোয়াইট হাউজ’-এর নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের বাইরে গুলি চালানো নিহত ওই বন্দুকধারীকে এক ‘সহিংস অতীতের অধিকারী’ ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনটি নিয়ে ওই হামলাকারীর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ‘আসক্তি’ বা মানসিক বিকৃতি থাকতে পারে বলেও তিনি তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আজ রোববার (২৪ মে, ২০২৬) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক বিশেষ ও নীতিগত পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি হোয়াইট হাউসের সুরক্ষায় নিয়োজিত বিশেষায়িত নিরাপত্তা দল ‘সিক্রেট সার্ভিস’ ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তাৎক্ষণিক বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করেন।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “হোয়াইট হাউসের অতি সংবেদনশীল নিরাপত্তা পরিধির কাছে আসা ওই বিপজ্জনক অস্ত্রধারীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত দ্রুত, নিখুঁত ও পেশাদার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমাদের অসাধারণ সিক্রেট সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাটির বুকে লুটিয়ে পড়া ওই ব্যক্তির অতীতেও বিভিন্ন ধরনের সহিংস অপরাধের রেকর্ড ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক এই সরকারি স্থাপনাটির প্রতি তাঁর একটি অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক মনস্তাত্ত্বিক আসক্তি থাকতে পারে বলেই এখন পর্যন্ত প্রতীয়মান হচ্ছে।” ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI) এবং সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতকাল শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) এক অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তি হোয়াইট হাউসের সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত একটি প্রধান নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের একেবারে কাছাকাছি চলে আসেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে তিনি আকস্মিক ও আত্মঘাতী উপায়ে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। এ সময় কোনো প্রকার কালবিলম্ব না করে চেকপয়েন্টে দায়িত্বরত সিক্রেট সার্ভিসের স্নাইপার ও ট্যাকটিক্যাল টিম পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ওই অস্ত্রধারী হামলাকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউস ও এর আশপাশের পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট (Red Alert) জারি করা হয়।

এই ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরপরই পুরো ওয়াশিংটন ডিসি ও ক্যাপিটল হিল এলাকায় ব্যাপক কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের চারপাশের সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, নিহত হামলাকারীর প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয়, তিনি কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রধান প্রশাসনিক ভবনে হামলার নেপথ্যে তাঁর প্রকৃত ব্লু-প্রিন্ট বা উদ্দেশ্য কী ছিল—তা উদ্ঘাটনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে এক ‘হাই-লেভেল’ ফরেনসিক ও কাউন্টার-টেররিজম তদন্ত শুরু করেছে।