চট্টগ্রামের ২৮ জন সাংবাদিকসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের অপহরণ ও নির্যাতনের যে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার কোনো প্রাথমিক সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ ১৭ মাসের তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (Final Report) দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর আনা ১০ ধরনের অভিযোগের সপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। মূলত তথ্যের অভাব এবং বাদীর অসহযোগিতার কারণেই মামলার মেরিট পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর হাসিনা মমতাজ নামে এক নারী চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত ও নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনকেও আসামি করা হয়েছিল। মামলার এজাহারে অভিযোগ ছিল, সাংবাদিকরা আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ছবি প্রকাশ না করে তথ্য গোপন করেছেন, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করেছেন এবং এমনকি গণমাধ্যমের গাড়ি ব্যবহার করে অস্ত্র সরবরাহের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত ছিলেন। তবে পিবিআই-এর তদন্তে এসব দাবির সপক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ উঠে আসেনি।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় তিনি একাধিকবার বাদীর বাসায় গিয়েছেন এবং নোটিশ পাঠিয়ে তথ্য চেয়েছেন। কিন্তু বাদীর পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সাড়া বা তথ্য মেলেনি। অন্যদিকে, বাদী হাসিনা মমতাজ এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর সাথে কোনো কথা না বলেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে তিনি আদালতে ‘নারাজি’ (তদন্তের ওপর অনাস্থা) আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহলে এই মামলাটি শুরু থেকেই ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। শুকলাল দাশ, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মিন্টু চৌধুরীসহ প্রথিতযশা সাংবাদিকদের নাম এই তালিকায় থাকায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। পিবিআই-এর এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের ওপর থেকে বড় একটি আইনি দায়ভার আপাতত সরলেও, বাদীর নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এখন পরবর্তী কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই সবার নজর।



