― Advertisement ―

ইরানের ‘খেইবার’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে উঠল তেল আবিব

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নতুন এবং বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ২১তম ধাপ হিসেবে অভিহিত এই অভিযানে ইরান তাদের অত্যাধুনিক ‘খেইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই হামলার ফলে পুরো অঞ্চলে এক চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে যখন ইরানের দিক থেকে রকেট ও ড্রোন ধেয়ে আসছিল, তখন ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করে। আকাশে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সঙ্গে ইরানি রকেটের সংঘর্ষে বিশাল আগুনের গোলক এবং কানফাটানো বিস্ফোরণ দেখা যায়। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান এই সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। এর ফলে শহরজুড়ে সাইরেনের শব্দ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এটি তাদের চলমান অভিযানের একটি সুপরিকল্পিত অংশ। তারা দাবি করেছে, কেবল তেল আবিব নয়, বরং ইসরায়েলের আরও বেশ কয়েকটি কৌশলগত এলাকাকে এই হামলার আওতায় আনা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের এই ‘ট্রু প্রমিস ৪’ অভিযানের লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের এই সমন্বিত আক্রমণ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা আরও জোরালো হলো। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার সম্ভাবনা থাকায় পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে এই সরাসরি আঘাতের ফলে কেবল জানমালের ক্ষতি নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।