― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

প্রশাসনিক সংস্কার: আট প্রতিমন্ত্রী ও দুই উপদেষ্টার দপ্তর পুনর্বণ্টন

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত একাধিক গেজেটের মাধ্যমে আটজন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দুজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ এর ক্ষমতাবলে এই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন বিন্যাসে বেশ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের পরিধি কমিয়ে নির্দিষ্ট একটি মন্ত্রণালয়ে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মো. শরিফুল আলম আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও এখন থেকে তিনি কেবল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের হাল ধরবেন। একইভাবে মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে অর্থ ও পরিকল্পনা থেকে সরিয়ে শুধুমাত্র পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রতিমন্ত্রীর কাঁধে একাধিক মন্ত্রণালয়ের ভার থাকলে কাজের নিবিড়তা কমে যায়; এই পুনর্বণ্টন সেই চাপ কমিয়ে প্রতিটি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজকল্যাণ খাতেও রদবদল এসেছে। ফারজানা শারমীনকে সমাজকল্যাণ এবং ববি হাজ্জাজকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে মো. নুরুল হক নুর এখন থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট তদারকি করবেন। এছাড়া হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসানকে যথাক্রমে রেলপথ ও নৌপরিবহন খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে তাঁদের ওপর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর দুই রাজনৈতিক উপদেষ্টার ক্ষেত্রে। মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে তাঁর বর্তমান পদের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিকদের সম্পৃক্ততা কৃষি ও শিল্প—এই দুই উৎপাদনশীল খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলো দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।