বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। রসায়ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও অন্য ছাত্রীদের অনুমতি ছাড়া গোপনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ছাত্র দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ছাত্রীদের ছবি বিকৃত করে আসছিলেন, যা কেবল ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়, বরং একটি পরিকল্পিত সাইবার অপরাধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার রাতে ইফতারের পর। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তার এক নারী বন্ধুর অনুমতি ছাড়াই কিছু আপত্তিকর ছবি তোলেন। বিষয়টি ওই ছাত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন এবং সহপাঠীদের সহায়তায় অভিযুক্তের ফোন চেক করেন। সেখানে কেবল ওই ছাত্রীর নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শতশত ছাত্রীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি পাওয়া যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের খবর দেন। রাতভর উত্তেজনা চলার পর বুধবার সকালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীরা বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, পূজা বা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় তারা একসাথে কাজ করেন এবং ছবি তোলেন। অভিযুক্ত ছাত্র সেই সুযোগে তাদের অনেক ব্যক্তিগত ও গ্রুপ ছবি সংগ্রহ করেছেন। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে বা কোনো পর্নোগ্রাফি চক্রের কাছে বিক্রি করা হতে পারে। এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি বিকৃত করার বিষয়টি এই অপরাধের মাত্রাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে, যা ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযুক্তের ফোন থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো অন্য কোথাও পাচার করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।



