জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও তার স্ত্রী তাহেরা সোবহার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি তাদের তিন ছেলের সম্পদের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যশোর-১ আসনের সাবেক এই এমপিকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারগো গার্মেন্টসের কর্মকর্তা সোহান শাহ হত্যা মামলায় তিনি আসামি।
গত ১৯ জুলাই রামপুরায় একটি সিএনজি স্টেশনের সামনে গুলিবিদ্ধ হন ৩০ বছর বয়সী সোহান শাহ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বরাতে আক্তার হোসেন জানান, শেখ আফিল উদ্দিনের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ টাকার বৈধ আয়ের উৎস শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৪৬ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৪২২ টাকার সম্পদের গ্রহণযোগ্য উৎস না পাওয়ায় তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই অনুসন্ধানে তার স্ত্রী তাহেরা সোবহার নামে ১৯ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৭ টাকার বৈধ উৎস মিলেছে। অবশিষ্ট ১৬ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার ৩০৮ টাকার সম্পদের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় একই আইনে তার বিরুদ্ধেও মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিন ছেলেকে সম্পদের হিসাব দিতে নোটিশ
দুদক জানায়, শেখ আফিল উদ্দিনের তিন ছেলে—শেখ কুতুব উদ্দিন, শেখ তামিম উদ্দিন ও আফনান উদ্দিনের সম্পদ নিয়েও অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।
শেখ কুতুব উদ্দিনের নামে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ টাকার বৈধ উৎস মিলেছে। আয়ের তুলনায় ২ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭৩৬ টাকা বেশি সম্পদ পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শেখ তামিম উদ্দিনের ক্ষেত্রে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বৈধ আয় ৪ কোটি ৯৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৭৫ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বৈধ আয়ের বাইরে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৮ টাকার সম্পদের বিষয়ে তাকেও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
অপর ছেলে আফনান উদ্দিনের নামে ২ কোটি ১ হাজার ৩৪৩ টাকার সম্পদ শনাক্ত হয়েছে। তার বৈধ আয়ের উৎস ১ কোটি ২৯ লাখ ২৭ হাজার ১০৭ টাকা। আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ৭০ লাখ ৭৪ হাজার ২৩৬ টাকার সম্পদের বিষয়ে তার কাছেও বিবরণী চাওয়া হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক আল-আমিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে।



