শিক্ষার আঙিনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য, কিন্তু সেই সম্পর্ক ও পেশাগত দায়িত্ব যখন আন্দোলনের আবর্তে পড়ে, তখন তৈরি হয় এক জটিল সংকট। গত বছরের শেষ দিকে বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন কর্মবিরতি পালন করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের ‘পলিসি ও অপারেশন’ শাখা থেকে দেশের সকল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসানের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যারা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের ২৭ নভেম্বর। বেতন বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের একটি অংশ কর্মবিরতি শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বা ‘তৃতীয় সাময়িক মূল্যায়ন’ তাঁরা বর্জন করেন। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষের শেষ পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে এবং অনেক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। যদিও ২ ডিসেম্বর রাতে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়, কিন্তু সেই সময়কার বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি অধিদপ্তর অব্যাহত রাখে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাসিক সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পরীক্ষা বর্জনকারী শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
অধিদপ্তরের পাঠানো চিঠিতে কেবল ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশই দেওয়া হয়নি, বরং ইতিপূর্বে কোনো কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর মনে করছে, পরীক্ষা চলাকালীন কর্মবিরতি বা আন্দোলন পেশাগত অসদাচরণের শামিল। এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, তাঁদের ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নামার কারণেই এখন তাঁদের প্রশাসনিক চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে। শিক্ষক ও অধিদপ্তরের এই টানাপোড়েন প্রাথমিক শিক্ষা খাতে এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে।



