― Advertisement ―

ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’, ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তান মিশনে ন্যাটো বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ট্রাম্পের দাবি ছিল—আফগানিস্তানে অ-মার্কিন সেনারা সম্মুখ সমর বা ফ্রন্টলাইন থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করত। এই বক্তব্যকে দায়িত্ব পালন করা ৪৭ জন নিহত অস্ট্রেলীয় সেনার পরিবারের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে দেখছে ক্যানবেরা। রোববার এক কড়া প্রতিক্রিয়ায় আলবানিজ বলেন, এই ধরনের মন্তব্য ওই পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের শোক ও আত্মত্যাগকে অশ্রদ্ধা করার শামিল।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করা ৪০ হাজার অস্ট্রেলীয় সেনা কেবল নামমাত্র উপস্থিত ছিল না, বরং তারা সাহসিকতার সাথে প্রথম সারিতে থেকেই লড়াই করেছে। পশ্চিমা মিত্রদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যে ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর কেবল অস্ট্রেলিয়া নয়, পুরো ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেই এক ধরনের অসন্তোষ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মজার বিষয় হলো, সমালোচনার মুখে ট্রাম্প কিছুটা পিছু হটেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্রিটিশ সেনাদের বীরত্বের প্রশংসা করলেও অস্ট্রেলিয়ার বিষয়ে তিনি এখনও নীরব। এই দ্বিমুখী অবস্থানের সমালোচনা করে আলবানিজ বলেন, এক দেশের অবদান স্বীকার করে অন্য মিত্রদের ছোট করা সাংঘর্ষিক। এদিকে, ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে অস্ট্রেলিয়া গ্রেগ মোরিয়ার্টিকে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। কেভিন রাডের বিদায়ের পর এই নতুন নিয়োগকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতে ভারসাম্য বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।