― Advertisement ―

ইরানের বিক্ষোভে উত্তাল ভূ-রাজনীতি: ট্রাম্পের আহ্বানে কড়া জবাব তেহরানের

ইরানে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পলিটিকোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি মন্তব্য করেন যে, “এখন ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার উপযুক্ত সময়।” ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ককে এক চরম উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ট্রাম্পের এই আহ্বানের ঠিক আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক ভাষণে ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। খামেনির দাবি, ইরানে চলমান অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য মূলত ট্রাম্পের উসকানিমূলক নীতিই দায়ী। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প খামেনিকে একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, খামেনির উচিত সাধারণ মানুষকে হত্যা বন্ধ করে দেশ পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, বর্তমান নেতৃত্বের অযোগ্যতায় ইরান এখন বিশ্বের অন্যতম বসবাসের অযোগ্য দেশে পরিণত হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে দমন-পীড়নের ফলে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০ জন নিহত এবং ২২ হাজার ১২৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘ নীরবতার পর খামেনি নিজেও বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা, ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামরিক ঘাঁটি থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।