― Advertisement ―

যুদ্ধবিরতির আড়ালে নতুন সীমান্ত? ইয়েলো লাইনের কাছে ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ সীমারেখা ফিলিস্তিনিদের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দৃশ্যত বা কখনো অদৃশ্য এই বিভাজনরেখা অতিক্রম বা তার কাছাকাছি যাওয়ার অপরাধে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এই বিতর্কিত ইয়েলো লাইনের আশেপাশে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ও কিশোর রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই প্রাণহানির কথা স্বীকার করলেও তাদের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই ‘সশস্ত্র যোদ্ধা’ ছিল। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে ধ্বংসস্তূপের মাঝে অস্পষ্ট সীমারেখার কারণে সাধারণ মানুষ অজান্তেই নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়ছেন। যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল গাজার অভ্যন্তরে প্রায় ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বাফার জোন তৈরি করেছে, যা গাজার অধিকাংশ কৃষিজমি ও কৌশলগত উঁচু এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি ভূখণ্ডে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মানচিত্র বিশ্লেষকদের অভিযোগ, অনেক স্থানে এই ইয়েলো লাইন চুক্তিতে নির্ধারিত সীমার চেয়েও প্রায় আধা কিলোমিটার ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে। আল-আহলি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সব বয়সী মানুষ ইয়েলো লাইনের কাছ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। এমনকি খেলতে গিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই রেখাকে ‘নতুন সীমান্তরেখা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্থায়ী ভূমি দখলের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।