নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালীঃ ঢাকা থেকে পটুয়াখালী জেলার ৬ নৌপথে প্রতিদিন ২২ টি লঞ্চের রুট পারমিট থাকলেও বর্তমানে চলাচল করছে মাত্র ৪ টি লঞ্চ।
তবে এবারের ঈদে যাত্রীদের চাপ বাড়লে আজ বৃহস্পতিবার থেকে এসব রুটেও বিশেষ সার্ভিস চালুর কথা রয়েছে।
ঈদে যাত্রী সেবার কথা চিন্তা করেই এই নৌপথে বিশেষ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত কয়েক লাখ মানু নৌপথে লঞ্চে চলাচল করতো।
২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চগুলো যাত্রী সংঙ্কটে পড়ে। এতে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পটুয়াখালী নদী বন্দর সূত্র জানায়, ঢাকা-পটুয়াখালী নৌপথে ১০ টি লঞ্চের রুট পারমিট রয়েছে। এই ১০টির মধ্যে প্রতিদিন ৫ টি করে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী ও পটুয়াখালী থেকে ঢাকা নৌপথে চলাচলের কথা থাকলেও যাত্রীর চাপ কম থাকায় দৈনিক মাত্র একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে।
একইভাবে ঢাকা-কলাপাড়া ও ঢাকা-চরমোন্তাজ রুটে ৩ টির স্থলে একটি করে, ঢাকা-কালাইয়া রুটে ৪ টির স্থলে একটি লঞ্চ চলাচল করে। তবে ঢাকা-গলাচিপা রুটে ৪ টি ও ঢাকা-রাঙ্গাবালী রুটে ৩ টি লঞ্চের রুট পারমিট থাকলেও যাত্রী সংকটের কারণে এ রুট দু‘টিতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে যাত্রীর চাপ থাকলে এসব রুটেও ঈদ উপলক্ষে লঞ্চ চালু হবে বলে জানা যায়।
পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের সুপারভাইজার মো, ইউনুচ মিয়া জানায়, এক সময় পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথ সহ দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ নৌপথে সাচ্ছন্দে চলাচল করতো।
প্রচুর যাত্রী থাকার কারণে লঞ্চ মালিকরাও আধুনিক সুযোগ সুবিধা স্মবলিত লঞ্চগুলো যাত্রী সেবার জন্য এই নৌপথে নামিয়েছিল। কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই যাত্রী সংকটে পরেছে।
লোকসানের মুখে লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক লঞ্চ মালিক জানায়, যাত্রী সংকটের কারনে লোকসান গুনতে হয় তাদের। এই অবস্থায় লঞ্চ মালিকরা পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন একটি করে লঞ্চ চালানো শুরু করেন।
তবে শুধুমাত্র ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে এবং যাত্রীর উপস্থিতি বুঝে প্রয়োজনে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী নদী বন্দর কর্মকর্তা মোঃ জাকী শাহরিয়ার বলেন, পদ্মা সেতুর চালুর পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চ যাত্রীর সংখ্যা আশংকাজনকহারে কমে গেছে। গত সোমবার পটুয়াখালী থেকে সুন্দরবন-১৪ লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায। তবে সেখানে শতাধিক কেবিনের মধ্যে ১৪/১৫টি বুকিং ছিল।
আর প্রায় ৩শ যাত্রী ধারণক্ষমতার ডেকে মাত্র ৩০-৪০ জন যাত্রী ছিল। তবে যাত্রীর চাপ বাড়লে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
বিএম/জ/রা



