― Advertisement ―

‘প্রজেক্ট ফ্রিডম প্লাস’: আলোচনার টেবিলে ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুঁশিয়ারি

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় আশানুরূপ অগ্রগতি না হলে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম প্লাস’ নামক নতুন সামরিক অভিযান শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৯ মে ২০২৬) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কঠোর অবস্থানে ফিরতে পারে। এর আগে শুরু হওয়া ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও, আলোচনার অচলাবস্থা কাটানো না গেলে এর আরও শক্তিশালী সংস্করণ ‘প্লাস’ কার্যকর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ মে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করলেও সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির চাপে ট্রাম্প পরদিনই তা স্থগিত করতে বাধ্য হন। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে এবং শান্তির সুযোগ দিতেই তিনি সামরিক পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে এসেছিলেন। তবে ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ-অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

এই সংকটের মূলে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় আলোচনারত অবস্থায় ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর ভয়াবহ হামলা। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পাশাপাশি মিনাব শহরের একটি স্কুলে ১৬৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে। ইরান সরকার এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের নতুন এই হুমকি পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক চললেও তা এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দেড় মাসের সংঘাতে ৩ হাজার ৩৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশ সাধারণ নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মী। এমন মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম প্লাস’-এর ঘোষণা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের শঙ্কিত করে তুলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।