― Advertisement ―

‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’: হরমুজে সাবমেরিন মোতায়েন করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ও নৌ-অবরোধের মধ্যেই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই শক্তিশালী সাবমেরিনগুলোকে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। রোববার (১০ মে ২০২৬) ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক বিবৃতিতে জানান, বিদ্যমান নিরাপত্তা হুমকি ও অপারেশনাল প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এই সাবমেরিনগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সেগুলো এখন সমুদ্রতলে সক্রিয় রয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি দাবি করেন, এই হালকা সাবমেরিনগুলো দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে নিঃশব্দে শত্রু জাহাজ শনাক্ত এবং প্রয়োজনে ধ্বংস করতে সক্ষম। সম্প্রতি ‘ডেনা ডেস্ট্রয়ার’ জাহাজের শহীদদের স্মরণে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানের সময় এই সাবমেরিনগুলো পানির উপরিভাগে উঠে এসে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। কৌশলগত এই মহড়া শেষে সাবমেরিনগুলো পুনরায় গভীর সমুদ্রে ফিরে গিয়ে তাদের নির্ধারিত মিশন চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাবমেরিন মোতায়েনের এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ এখনো কাটেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিসাইল হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর প্রতিবাদে ইরান টানা ৩৯ দিন ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গত ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে তেহরান।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে অন্তত ৩ হাজার ৩৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা কেবল সাধারণ মানুষের প্রাণহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ২৬ জন চিকিৎসাকর্মীও কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এবং ইসলামাবাদের আলোচনার পর বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে এই সাবমেরিন মোতায়েন নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই মোতায়েনকে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতার একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন।