― Advertisement ―

তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা; মে মাসে ১৫০ ডলার হওয়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ব্যারেলপ্রতি ১০৬.৫০ ডলার, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইভাবে মার্কিন তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সংঘাত নিরসনের সুনির্দিষ্ট কোনো পথ না পেয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যার সরাসরি প্রতিফলন ঘটছে তেলের বাজারে।

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও এশীয় শেয়ার বাজারগুলোতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বাজার বিশ্লেষকরা একে ‘সাময়িক’ হিসেবে দেখছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা কেবল আলোচনার আশ্বাসে ফিরবে না; এর জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য চুক্তি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে আছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রতিবাদে ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন, যা তেলের বাজারে ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি ইসলামাবাদে নির্ধারিত আলোচনা বাতিল করে তেহরানের নেতৃত্বের মধ্যে ‘অন্তর্কোন্দল ও বিভ্রান্তি’র দাবি করেছেন। ট্রাম্পের সাফ কথা—আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। এমন একপাক্ষিক অবস্থান এবং কূটনৈতিক স্থবিরতা চলতে থাকলে মে মাস নাগাদ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ভয়াবহ মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।