চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আজ এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান (২২) নামের এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুতগামী একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়িটি এতই বেপরোয়া গতিতে ছিল যে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সামিয়া গাড়ি থেকে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আহত গাড়িচালক সাইদুল আলমকে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত সামিয়া জাহান নগরের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা মো. আবু তালেব পাটোয়ারি এবং মা নাসিমা সুলতানা। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সামিয়া কলেজে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কীভাবে তিনি ওই ব্যক্তিগত গাড়িতে পতেঙ্গা এলাকায় পৌঁছালেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নিহতের মামা গিয়াস উদ্দিন শিকদার জানিয়েছেন, গাড়িচালক সাইদুল আলমকে পরিবারের কেউ আগে থেকে চেনেন না। বিকেলে আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এরশাদ মিয়া জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই সামিয়াকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চালক সাইদুল আলম বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ গাড়িটি জব্দ করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। এক্সপ্রেসওয়ের মতো আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এমন বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সামিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি সম্ভাবনাময় প্রাণের এমন অকাল বিদায় কেবল একটি পরিবারকে নিঃস্ব করেনি, বরং এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।



