― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

কয়রায় রাকসু জিএস আম্মারের কুশপুত্তলিকা দাহ ও ঝাড়ুমিছিল; এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা

খুলনার কয়রা উপজেলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) স্থানীয় বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা এক বিশাল ঝাড়ুমিছিল বের করেন। বিক্ষোভকারীরা আম্মারকে কয়রা উপজেলায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করার পাশাপাশি তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এখন থমথমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিক্ষোভের শুরু হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী হাতে ঝাড়ু নিয়ে কয়রা উপজেলার প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে স্থানীয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ সবুজ বলেন, রাকসু জিএস আম্মার যে কুরুচিপূর্ণ ব্যঙ্গচিত্র পোস্ট করেছেন, তা কেবল একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনই নয়, বরং কোটি নেতা-কর্মীর হৃদয়ে আঘাত। তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, কয়রাবাসী আম্মারকে আর তাদের মাটিতে পা রাখতে দেবে না এবং যেখানেই তাকে পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

কয়রা উপজেলা যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারেক রহমানের ছবির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি জুড়ে দিয়ে আম্মার যে বিকৃত রুচির পরিচয় দিয়েছেন, তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সালাহউদ্দিন আম্মার কয়রার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তার এমন কর্মকাণ্ড এলাকাকে অস্থির করে তুলেছে। উল্লেখ্য যে, গতকাল বুধবারও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তার ফেস্টুন ও ব্যানার ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছিল উত্তেজিত কর্মীরা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে আম্মারের উপস্থিতিতে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।

এদিকে, সালাহউদ্দিন আম্মার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার না করে বরং ফেসবুক পেজে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। যদিও বিতর্কিত সেই পোস্টটি বর্তমানে তার টাইমলাইনে নেই, তবে আম্মারের দাবি সেটি তিনি ডিলিট করেননি, বরং সাইবার হামলার শিকার হয়ে সেটি অপসারিত হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে আম্মার আরও উল্লেখ করেছেন যে, কয়রায় তার বিরুদ্ধে হওয়া মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন তার আপন মামা, যিনি স্থানীয় বিএনপির সদস্যসচিব। নিজের পরিবারের সদস্যদের এমন সক্রিয় বিরোধিতার ভিডিও ফুটেজও তিনি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এই ঘটনাটি কয়রার স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।