― Advertisement ―

উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যে ফাটলের শঙ্কা: আরব আমিরাত ও বাহরাইন কি বলয় ভাঙবে?

ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরব উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পর্যন্ত দৃশ্যত একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখলেও, এই জোটের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত মনে করছেন, এই ঐক্য বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক বা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন এই বলয় থেকে বেরিয়ে আসার প্রচ্ছন্ন চাপে রয়েছে। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশগুলোর বর্তমান অবস্থান মূলত একটি ‘ইউনাইটেড ফ্রন্ট’ বা সম্মিলিত ফ্রন্ট হিসেবে প্রদর্শিত হলেও এর ভেতরে অস্থিরতা বিদ্যমান।

এই অস্থিরতার পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। দ্বিতীয়ত, ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে এই দুই দেশের কূটনৈতিক স্বাভাবিকীকরণ এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর চেয়ে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ফলে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি হামলার শিকার হওয়া এবং ইসরায়েলি মিত্রতার কারণে এই দুই রাষ্ট্র জোটের সাধারণ অবস্থান থেকে সরে আসার প্রলোভনে পড়তে পারে।

অধ্যাপক বারাকাত আরও উল্লেখ করেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার এটি স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে যে এটি তাদের যুদ্ধ নয়। বরং তারা মনে করে, এই পরিস্থিতি তাদের ওপর এবং ইরানের ওপর একইভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো কঠোর অবস্থানে যায়নি, বরং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় একটি ভারসাম্যমূলক নীতি অনুসরণের চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েলি সংশ্লিষ্টতা ও ক্রমাগত হামলার মুখে আমিরাত ও বাহরাইন কতদিন এই সাধারণ কাতারে থাকতে পারবে, তা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক মহলে সংশয় বাড়ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মূলত এই অঞ্চলের বৃহত্তর অস্থিরতা এড়ানোর একটি কৌশল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাপের মুখে এই কৌশল কতটুকু টেকসই হবে, তা নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তজনা কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।