ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানির নিশ্চয়তায় দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, পানি কেবল জীবনের উৎস নয়, এটি সামাজিক সমতা ও ন্যায্যতার প্রতীক। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয় এখন দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় জোর দিচ্ছে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ৫৪টি জেলায় খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছে। প্রথম পর্যায়ে ১৮০ দিনের মধ্যে ১২০০ কিলোমিটার এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, বরং সঠিক তথ্য-উপাত্ত ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে খাল খননের স্থান নির্বাচন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি উত্তরবঙ্গকে মরুভূমি হওয়া থেকে বাঁচানো এবং দক্ষিণবঙ্গকে লবণাক্ততার হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পানি মানুষের জীবন-জীবিকা ও আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় প্রখ্যাত পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাতসহ দেশের বরেণ্য পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলো উদ্ধারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন। সভার সভাপতি পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বিশাল খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।



