মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি বাজারে। হু হু করে বাড়তে থাকা তেলের দাম আর সরবরাহ সংকটে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই এক বিশাল ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। সোমবার (৩০ মার্চ) এক জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে তিনি জানান, আগামী বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের ওপর বড় ধরনের কর ছাড় কার্যকর হচ্ছে। মূলত ইরান-মার্কিন যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা থেকে ঘরোয়া অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতেই ক্যানবেরার এই সাহসী পদক্ষেপ।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী তিন মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকরা প্রতি লিটারে প্রায় ২৬ অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট কম দামে জ্বালানি কিনতে পারবেন। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি লিটার আনলেডেড পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী ২.৫৩ ডলারে ঠেকেছে, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের জন্যও সুখবর দিয়েছে সরকার। আগামী ৯০ দিন তাদের কোনো ‘হেভি ভেহিকেল রোড ইউজার চার্জ’ দিতে হবে না, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ এক বিশেষ ‘ন্যাশনাল ফুয়েল সিকিউরিটি প্ল্যান’ বা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন। এই পরিকল্পনার চারটি ধাপের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করতে চান যে, জরুরি পরিষেবাগুলো যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তরে অবস্থান করছে। তবে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হলে তৃতীয় স্তরে গিয়ে দেশটির সংরক্ষিত বিশাল জ্বালানি ভাণ্ডার উন্মুক্ত করার প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। সিডনির অনেক ফিলিং স্টেশনে ইতোমধ্যে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি প্রসঙ্গে আলবেনিজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ নীতির ওপর প্রচ্ছন্ন চাপ সৃষ্টি করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ওয়াশিংটনকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে। তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমাতে দ্রুত ‘ডি-এস্কেলেশন’ বা উত্তেজনা প্রশমন এখন সময়ের দাবি। অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিশ্ব সংঘাতের মুখে একটি দেশের টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন।



