― Advertisement ―

মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ এখন ইরানের লক্ষ্যবস্তু: আরব সাগরে চরম উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরানের নৌবাহিনী ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বর্তমানে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এটি হামলার শিকার হতে পারে। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র আক্রমণের মুখে মার্কিন এই ‘সমুদ্র দানব’ রণতরীটি ইরানের জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, যাকে তেহরান ‘পলায়ন’ হিসেবে অভিহিত করছে।

এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে গত ৪ মার্চ ঘটে যাওয়া একটি রক্তক্ষয়ী ঘটনা। ইরানের নৌপ্রধান জানান, ভারত মহাসাগরে ভারত ও ইরানের যৌথ মহড়া শেষে ফেরার পথে ‘আইআরআইএস ডেনা’ নামক একটি ইরানি ফ্রিগেট মার্কিন টর্পেডো হামলায় বিধ্বস্ত হয়। শ্রীলঙ্কা উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটা সেই হামলায় অন্তত ৮০ জন ইরানি নাবিক নিহত হন। শাহরাম ইরানি স্পষ্ট করে বলেছেন, “ডেনা যুদ্ধজাহাজের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আব্রাহাম লিঙ্কন আমাদের ফায়ারিং রেঞ্জে আসা মাত্রই সমুদ্র থেকে সমুদ্রে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে।”

ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইরানি নৌ-কমান্ডারদের মতে, মার্কিন বাহিনী এখন আর ইরানের রাডার এবং আক্রমণ সক্ষমতার বাইরে নেই। আরব সাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন স্ট্রাইক গ্রুপটি আগে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার জন্য ব্যবহৃত হলেও, এখন তারা নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কেবল সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছে এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থাপনা এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হুমকি কেবল বাগাড়ম্বর নয়, বরং পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরে ওয়াশিংটনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক সরাসরি চ্যালেঞ্জ। যদি ইরান সত্যিই ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর ওপর হামলা চালায়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাপ্রলয়ংকারী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক নৌপথগুলো এই উত্তেজনার কারণে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হুমকির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।