বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীর সন্নিকটে ইরানের একটি কৌশলগত বন্দরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত বন্দর শহর ‘বান্দার খামির’-এর একটি ঘাটে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জন নিহত এবং আরও ৪ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই ঘটনাকে “আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রুদের” এক বর্বরোচিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে।
একই সময়ে ইরানের রাজধানী তেহরানেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাজধানীর উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক স্থানে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে জনপদ। প্রত্যক্ষদর্শীরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন। তবে তেহরানের ঠিক কোন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই জোড়া হামলার ঘটনায় ইরানজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে হামলা চলায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। এই পথে যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হামলার পর পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি নৌবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলো এখনও অস্পষ্ট থাকলেও তেহরানের আবাসিক ও সামরিক এলাকার কাছাকাছি বিস্ফোরণগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন বা তেল আবিব থেকে এই অভিযানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা বিবৃতি আসেনি, তবে পুরো অঞ্চলটি এখন যুদ্ধের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।



