বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করায় এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে সোমবার এক ভয়াবহ পতন দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়া এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের পাল্টাপাল্টি ধ্বংসাত্মক হুমকির ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ এদিন ৩.৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোসপি’ সূচক এক ধাক্কায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অতি-নির্ভরশীল দেশগুলোই এই বাজার পতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংকটের মূলে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আল্টিমেটাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, এমন হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি শোধন ব্যবস্থা চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের পথ এই হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক তেল সংকট এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতার সঙ্গে তুলনা করেছে। সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন যে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২.৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ৯৮.৯৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পোৎপাদন খাতের জন্য অশনিসংকেত।
শুধু টোকিও বা সিউল নয়, হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং সাংহাই শেয়ারবাজারও বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। ইসরায়েলের ডিমোনা ও আরাদ শহরে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর মন্দার দিকে ধাবিত হবে।



