মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি (LNG) প্রকল্পের অপূরণীয় ক্ষতির পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রধান উপসাগরীয় জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে কাতার বিনাশর্তে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল-থানি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “এই আগ্রাসন এখনই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।”
কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ আল-কাবিব রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ক্ষয়ক্ষতির ফলে দেশটির বার্ষিক রাজস্ব আয়ের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনরায় সচল করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য যে, কাতার বিশ্বের মোট এলএনজি চাহিদার ২০ শতাংশ সরবরাহ করে, যার কোনো তাৎক্ষণিক বিকল্প বর্তমানে নেই। ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ইতিমধ্যে আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে।
সংঘাতের বিস্তৃতি কেবল কাতারেই সীমাবদ্ধ নয়; ইরান লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের নিকটবর্তী সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলোতেও সফল হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ইয়ানবুই ছিল সৌদির প্রধান বিকল্প পথ। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি এক নিবন্ধে সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করা যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কারো স্বার্থে নেই; বরং ইসরায়েল চাচ্ছে এই সংঘাতের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে।



