― Advertisement ―

গণতন্ত্রের আড়ালে কি দীর্ঘস্থায়ী সেনাশাসন? মিয়ানমারের নতুন সংসদ ঘিরে প্রশ্ন

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সোমবার মিয়ানমারে সংসদের নতুন অধিবেশন শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম সংসদীয় কার্যক্রম, যা দেশটিকে একটি আনুষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সংসদ স্রেফ নামমাত্র; যার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ও চাবিকাঠি রয়ে গেছে শক্তিশালী সামরিক জান্তার হাতেই। সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদে জান্তা সমর্থিত ইউএসডিপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

সোমবারের অধিবেশনে সংসদের নিম্নকক্ষের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খিন ইয়ি, যিনি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই নিয়োগটি স্পষ্ট করে দেয় যে, আগামী দিনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ইচ্ছানুসারেই হবে। উল্লেখ্য, অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকে মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা এই নতুন সংসদের মাধ্যমে সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের ২৫ শতাংশ আসন আগে থেকেই সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। এর ওপর জান্তা সমর্থিত ইউএসডিপি ৮১ শতাংশ আসন জয় করায় আইনসভার ওপর সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেও জান্তা সরকার দাবি করছে যে, এটি জনগণের ম্যান্ডেট। ধারণা করা হচ্ছে, সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেই দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে পারেন।

শাসনব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে জান্তা সরকার ‘ইউনিয়ন কনসালটেটিভ কাউন্সিল’ নামক একটি শক্তিশালী সুপার কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই পরিষদের মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ওপর সেনাপ্রধানের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বজায় থাকবে। জান্তা সরকার আগামী এপ্রিলের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যা তাদের ভাষায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে। তবে বাস্তিতে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের কাছে এটি গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার নয়, বরং সেনাশাসনের দীর্ঘস্থায়ী রূপায়ন।