― Advertisement ―

হরমুজ ঘিরে অস্থিরতা: জাহাজ পাঠাবে না জাপান-অস্ট্রেলিয়া

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহযোগিতার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে সাড়া মেলেনি। জাপান ও অস্ট্রেলিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ট্রাম্পের দাবি ছিল, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যারা জ্বালানি আমদানি করে, এই জলপথ রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব তাদেরই নেওয়া উচিত। তবে মিত্রদের এই অনীহা ট্রাম্পের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটিয়েছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ইরান ও ইসরায়েল ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই চীন, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ সাতটি দেশের সাথে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুরোধই তাদের কাছে পৌঁছায়নি।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন চীনকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য। তিনি হুমকি দিয়েছেন, বেইজিং যদি হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে মার্কিন প্রচেষ্টায় সহায়তা না করে, তবে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করতে পারেন। ট্রাম্পের যুক্তি, চীনের তেলের ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে, তাই তাদের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফুয়েল ট্যাংকে হামলা এবং সৌদি আরবে ৩৪টি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও ড্রোন হামলার এ ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক এই সংকট সহসা নিরসনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।