বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। শুক্রবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এই সিদ্ধান্তের ফলে পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্তকারী এই পথে পশ্চিমা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ল। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যারা সরাসরি এই সামরিক ও রাজনৈতিক অক্ষের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য প্রণালীটি উন্মুক্ত থাকবে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই নতুন বিধিনিষেধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভূ-রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’, কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশই এই সরু জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ইরানের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তেলের দামের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর উদ্বেগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনের (UKMTO) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইআরজিসি নিয়মিত বিরতিতে এই রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দিচ্ছে এবং নিরাপত্তার অজুহাতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি সংঘর্ষের প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালীকে এখন একটি ‘সামরিক রণক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের এই কৌশল ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে বাড়তি দরকষাকষির ক্ষমতা (Leverage) দিচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিগুলো এখন বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে। অন্যদিকে, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি—যেখানে আজ রাতে ইরানে ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’-এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার ও পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



