― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

‘বন মোরগ’ গেল কোথায়? খাগড়াছড়িতে বন বিভাগের নজিরবিহীন কাণ্ড

প্রকৃতি সংরক্ষণ যেখানে বন বিভাগের মূল দায়িত্ব, সেখানে খাগড়াছড়িতে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ও অদ্ভুত ঘটনা। জব্দ করা বিরল প্রজাতির বন মোরগ বনে অবমুক্ত না করে তার বদলে একটি সাধারণ ‘দেশি মোরগ’ ছেড়ে দিয়ে দায় সারার অভিযোগ উঠেছে গুইমারা উপজেলার জালিয়া পাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এই জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে গত বছরের একটি পুরনো ছবি পাঠানো হলেও স্থানীয়দের সচেতনতায় তা ধরা পড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলে নড়েচড়ে বসেছে বন বিভাগ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে এখন তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মাটিরাঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাভেদুর রহমান সরকারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে আরও রয়েছেন পানছড়ি ও খাগড়াছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তারা। তাঁদেরকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত গত বৃহস্পতিবার জালিয়া পাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বন মোরগ উদ্ধার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সেটি তৎক্ষণাৎ বনে অবমুক্ত করার কথা থাকলেও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম সেই নিয়ম না মেনে মোরগটি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, উদ্ধার করা মোরগটি অবমুক্ত করা হয়েছে দাবি করে রেঞ্জ কর্মকর্তা যে ছবিটি সাংবাদিকদের পাঠান, সেটি ছিল মূলত একটি দেশি মোরগের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া নিশ্চিত করেছেন যে, ছবিতে থাকা পাখিটি কোনোভাবেই বন মোরগ ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারাও দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া আসল বন মোরগটি রেঞ্জ কর্মকর্তা সরিয়ে ফেলেছেন এবং লোকদেখানো একটি দেশি মোরগ ছেড়ে দিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, সাংবাদিকদের পাঠানো ছবিটি আগের বছরের ছিল। তবে কেন তিনি এই ভুল তথ্য দিলেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এই ঘটনার ফলে বন বিভাগের স্বচ্ছতা বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বন্যপ্রাণী পাচার রোধ ও সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ড প্রকৃতপক্ষেই বন্যপ্রাণী রক্ষা আইনের চরম লঙ্ঘন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।