লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি কমান্ডোদের অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, সিরিয়ার দিক থেকে আসা চারটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার লেবাননের সীমানায় প্রবেশ করলে তাদের যোদ্ধারা সতর্ক অবস্থান নেয়। বালবেক জেলার নবী চিত (Nabi Chit) এলাকায় কমান্ডোরা অবতরণ করার সাথে সাথেই হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের ঘিরে ফেলে, যা তীব্র সম্মুখযুদ্ধে রূপ নেয়। এটি ছিল এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দুঃসাহসিক সামরিক অভিযান।
বিবৃতি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী যখন নবী চিত কবরস্থানের কাছে পৌঁছায়, তখনই হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের শনাক্ত করে এবং পাল্টা আক্রমণ চালায়। হিজবুল্লাহর দাবি, তাদের হাতে ধরা পড়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী প্রচণ্ড বিমান হামলার ছত্রচ্ছায়ায় এলাকা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পিছু হটার সময় ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা রকেট হামলা চালিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশজুড়ে মুহুর্মুহু গুলির শব্দে এলাকা প্রকম্পিত হচ্ছে, যা সংঘাতের ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়।
এই সংঘর্ষ কেবল নবী চিত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং লেবানিজ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার ওই এলাকায় ইসরায়েল অন্তত ১৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি বাহিনীর এই ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৯ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। আকাশপথের এই তীব্র হামলা মূলত হিজবুল্লাহর প্রতিরোধের মুখে পড়া ইসরায়েলি কমান্ডোদের উদ্ধার এবং এলাকা থেকে নিরাপদে সরে যেতে সহায়তা করার একটি কৌশল ছিল বলে ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বেকা উপত্যকা হিজবুল্লাহর একটি অন্যতম দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় ইসরায়েলের হেলিকপ্টারযোগে কমান্ডো পাঠানোর অর্থ হলো, তারা হিজবুল্লাহর গোপন আস্তানা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো লক্ষ্যবস্তুকে নির্মূল করতে চেয়েছিল। তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই অনুপ্রবেশ দ্রুত শনাক্ত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, উভয় পক্ষ এখন সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা পুরো অঞ্চলকে একটি বড় আকারের যুদ্ধের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।



