ঝালকাঠি-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সমবায় এলাকায় দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেল ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন খলিলুর রহমান (৪৫) নামের এক দরিদ্র অটোরিকশা চালক। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরের এই পৈশাচিক দুর্ঘটনাটি আবারও আঙুল তুলল আমাদের সড়ক অব্যবস্থাপনা ও বেপরোয়া গতির দিকে। ঘাতক যানের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশাটির ভেতরেই নিভে গেছে রাজাপুর উপজেলার কৈবত্যখালী গ্রামের এক সাধারণ মানুষের জীবনপ্রদীপ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাজাপুর থেকে ভান্ডারিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা অটোরিকশাটি সমবায় এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সাথে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় অটোরিকশাটি কাগজের মতো দুমড়ে যায়। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে এলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীও আহত হয়েছেন, তবে তাঁর আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানা গেছে।
খবর পাওয়ার পরপরই রাজাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত খলিলুর রহমান ছিলেন ইমান আলী খানের ছেলে। অভাবের সংসারে তিনি ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে এখন ক্ষোভ ও আতঙ্কের বাস। তাঁদের অভিযোগ, এই মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। ট্রাফিক পুলিশের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকা এবং গতিরোধকের অভাবকে তাঁরা এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, আর কত প্রাণ গেলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গতিরোধক স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারি এখন সময়ের দাবি।



