মিয়ানমারে এক মাসব্যাপী চলা বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) সম্পন্ন হয়েছে। এই দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ফলাফল নিয়ে জনমনে কোনো সংশয় নেই, কারণ সামরিক শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের মিত্ররা আগে থেকেই ক্ষমতার দখল নিশ্চিত করে রেখেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করা সামরিক জান্তার জন্য এই নির্বাচন কেবল নিজেদের অবৈধ শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক কৌশল মাত্র। এর ফলে দেশটিতে গণতান্ত্রিক ধারা ফেরার কোনো সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপেই সেনাবাহিনী সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি (USDP) নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছে। মিয়ানমারের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সংসদের ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সেনাদের জন্য সংরক্ষিত। ফলে সেনাবাহিনী ও তাদের জোটের শাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। গুঞ্জন রয়েছে, নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সংসদে সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে তারা বিশ্বকে একটি বেসামরিক সরকার গঠনের বার্তা দিতে চাইলেও মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে জেনারেলদের হাতেই।
এদিকে দেশজুড়ে চলা গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই নির্বাচন চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকায় লড়াই চলায় ভোটগ্রহণ করাই সম্ভব হয়নি। অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (NLD) জোরপূর্বক রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ায় এই নির্বাচন কোনোভাবেই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারেনি। আন্তর্জাতিকভাবে মালয়েশিয়া ও আসিয়ান জোট এই নির্বাচনের বৈধতা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও রাশিয়া ও চীনের মতো মিত্রদের সমর্থনে জান্তা সরকার তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনড়। কঠোর বিধিনিষেধ আর সহিংসতার আবহে শেষ হওয়া এই ভোট শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।



