― Advertisement ―

ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে ফের শ্রমিক হত্যা; উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

ভারতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। অন্ধ্র প্রদেশে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩২ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবক, মঞ্জুর আলম লস্করকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, উগ্রপন্থী কিছু গোষ্ঠী তাকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে এবং পরবর্তীতে চুরির মিথ্যা অপবাদ সাজিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মঞ্জুর দীর্ঘ এক দশক ধরে ওই এলাকায় জরি কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছিলেন, তবুও তাকে বিদেশি তকমা দিয়ে নিয়মিত এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হতো।

হত্যাকাণ্ডের আগে মঞ্জুরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা মঞ্জুরের স্ত্রীর কাছে ২৫ হাজার রুপি দাবি করে। অসহায় পরিবারটি ৬ হাজার রুপি অনলাইনে পাঠালেও শেষরক্ষা হয়নি; বুধবার রাতে জানানো হয় মঞ্জুর আর নেই। নিহতের ভাই, যিনি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা, এই ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন।

একই সময়ে চেন্নাইয়ে আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছ। আটদিন নিখোঁজ থাকার পর আলমগীর মণ্ডল (২৯) নামে এক শ্রমিকের মরদেহ রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। যদিও প্রাথমিক তদন্তে একে ট্রেন দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে আলমগীরের পরিবার বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমানে অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষমতায় রয়েছে টিডিপি-জেএসপি-বিজেপি জোট সরকার। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের ভুক্তভোগী পরিবারগুলো রাজ্য সরকারের মাধ্যমে অন্ধ্র প্রদেশ প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর ‘বাংলাদেশি’ তকমা লাগিয়ে এমন বর্বরোচিত হামলা ভারতের অভ্যন্তরীণ সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর এক কালো ছায়া ফেলেছে।