সিলেটে এক বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেছেন যে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি জানান, বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও কিংবা জুলাই জাতীয় সনদ—কোথাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়নি। আলী রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, যারা আইনি বাধার কথা বলছেন, তারা মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বিতর্কিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই গণভোট মূলত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সোপান। যারা এর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে অধ্যাপক রীয়াজ পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, সেই নৈতিকতা কি তরুণদের রক্তদানকে অস্বীকার করা? তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনো গতানুগতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, বরং এটি গণ-অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত একটি বৈধ সরকার।
অধ্যাপক রীয়াজ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বে সংঘটিত ৪৮টি গণভোটের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট সরকার সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়েছে। সাধারণ মানুষ গণভোটের জটিলতা বুঝবেন না—এমন ধারণাকে তিনি জনগণের প্রতি অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেন। অতীতে একক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান পরিবর্তনের যে সংস্কৃতি ছিল, তা চিরতরে বন্ধ করতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি মনির হায়দার ও ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিনও তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং একাত্তরের মূল আকাঙ্ক্ষা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই এই গণভোটের লক্ষ্য। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।



