পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে ফাহিমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি ওই নারীর সঙ্গে থাকা স্বামী পরিচয় দেওয়া যুবককে। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে ওই যুবকের ফোন বন্ধ রয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মধ্যে রাতে কুয়াকাটার আলীশান নামের আবাসিক হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। হোটেল কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, নিহত ফাহিমা আক্তারের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২ ডিসেম্বর আরিফ হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ফাহিমা আক্তার হোটেল আলীশানের ১০৫ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। দীর্ঘদিন অবস্থানের পর বুধবার রাতে কক্ষের ভেতর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এসময় সেখানে আরিফকে পাওয়া যায়নি।
হোটেল মালিক শহীদ হোসেন বলেন, ‘আমি তাদের কাছে রুম ভাড়া দিয়েছি মাসিক চুক্তিতে। তারা ২ তারিখ থেকে আমার হোটেলে অবস্থান করছে, তবে এর আগে কোন সময় কোন ধরনের বাকবিতন্ডা বা ঝামেলা হতে দেখিনি।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল বিকেল থেকে রুম তালাবদ্ধ ছিল এবং অনেক রাত পর্যন্ত কোন খবর না পেয়ে রুমের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি ভিতরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে ওই নারীর দেহ। এরপর আমি পুলিশকে খবর দেই।’
খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।



