― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

রাজধানীতে দাদন ব্যবসায় চলছে ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দাদন বা সুদের ব্যবসা মূলত উপকূলীয় জেলেদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে এই দাদন ব্যবসার মাধ্যমেই এখন রাজধানীতে পরিচালিত ছিনতাই।

আসলে দাদন ব্যবসা হচ্ছে, হাতে যখন কাজ থাকে না, তখন মহাজনদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে জীবনধারণ করা। কাজের মৌসুমে আবার সেই টাকা শ্রম ও মালের মাধ্যমে সুদে-আসলে পরিশোধ করাকেই মূলত দাদন ব্যবসা বলা হয়।

এখন উপকূলীয় জেলেদের মতো ছিনতাইকারীরাও ‘দাদন’ পদ্ধতিতে ছিতাইয়ের সরঞ্জাম ও টাকা যোগাড় করছে। মোটরসাইকেল, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, সামুরাইসহ ধারালো অস্ত্র আগাম টাকা ছাড়াই ভাড়া পায় ছিনতাইকারীরা।

এমনকি, ছিনতাই করতে গিয়ে কেউ যদি ধরা পড়ে, সেক্ষেত্রেও ছাড়িয়ে আনার জন্য দাদনের ব্যবস্থা রয়েছে। দ্রুত জামিনের জন্য আগাম টাকাও দাদন হিসেবে পাচ্ছে তারা।

তবে শর্ত হচ্ছে, ছিনতাইয়ের মালামাল বিক্রি করতে হয় সেই ‘দাদন’ ব্যবসায়ীদের কাছে। যাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন ছিনতাইকারী এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

গত ১১ই জুলাই সকাল ৬টার দিকে শিমিয়ন ত্রিপুরা (৩০) নামে এক যুবক শ্যামলী থেকে ধামরাইয়ে তার কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শ্যামলী মেরিগোল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কাছে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে এসে ৩ ছিনতাইকারী তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। সবকিছু কেড়ে নেয়। এমনকি তার পায়ের জুতা ও গায়ের টি-শার্টও খুলে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইয়ের ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর নড়েচড়ে বসে প্র্শাসন। গত বুধবার ভোরে ঢাকা, কেরানীগঞ্জ ও ভোলার চরফ্যাশন থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও চাপাতিসহ আল আমিন (২৮), আসলাম শিকদার (২৯) ও কবির (২২) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তেজগাঁও (ডিবি) বিভাগের সদস্যরা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন ও আসলাম জানিয়েছে, তারা শুধু শ্যামলী নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। আর তাদের এই ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল-অস্ত্র তারা ভাড়া নেন কবির ও জহিরের কাছ থেকে। কবির ও জহির আপন দুই ভাই। এসব ছিনতাই চক্রের তারাই মূলহোতা। তারা নিজেরা কখনোই ছিনতাই করে না। তবে ঢাকার একাধিক ছিনতাই চক্র দেখভাল করেন। ছিনতাইকারীদের অস্ত্র, গাড়ি ও টাকা দাদন হিসেবে দেন।

এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, এমন দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্র এই প্রথম চিহ্নিত হয়েছে। যারা ছিনতাইয়ের জন্য চাপাতি আর মোটরসাইকেল ভাড়া দেয়। তিনি বলেন, এই ছিনতাইয়ের কাজে সরাসরি জড়িত থাকায় আল আমিন ও আসলাম নামে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের কাজে জড়িত পারভেজ নামে আরও একজনকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে ১৭-১৮টি করে মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, শ্যামলীতে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি শ্যামলীর দুই নম্বর সড়কের মেরিগোল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে তাদের শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় আমাদের সামনে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। এরা এমন একটি চক্র, যারা অগ্রিম চাপাতি আর মোটরসাইকেল ভাড়া দিয়ে ছিনতাই করায়। চক্রের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, আমরা অনেক ছিনতাইকারী আটক করেছি। কিন্তু ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল-চাপাতি ভাড়া দেয়া আগে দেখেনি। এই অভিনব চক্রের সন্ধান এই প্রথম পাওয়া গেল।

তিনি বলেন, অভিনব এই চক্রের সকল সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে পারলে ঢাকা শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেকাংশেই কমে আসবে।
সূত্র: মানবজমিন