বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কিভাবে স্বৈরাচারে পরিণত হলেন? কারণ স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আমাদের দেশে বিরাজমান ছিল। কতগুলো বিদ্যমান নীতি, নিয়ম পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠান, আইন-কানুন সেগুলো কিন্তু শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী পরিণত করেছে।
আজ শনিবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১ টায় বরিশালের বিডিএস হল রুমে আয়োজিত ‘জাতীয় সনদ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনা সৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিতাড়িত হয়েছেন। তিনি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা যদি ফিরে তাকাই শেখ হাসিনা কি ট্যাংকে চড়ে বা খাকি পোশাক করে ক্ষমতায় এসেছিলেন? না আসে নাই। তিনি একটা নির্বাচনের মাধ্যমে এসেছিলেন।
সুজন সম্পাদক বলেন, এছাড়া তিনি স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে কিছু কিছু আইন-কানুনে পরিবর্তন এনেছেন। সংবিধান সংশোধন করেছেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংশোধন করেছেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী তিনি এনেছেন যার ফলে তিনি আমাদের উপর স্বৈরাচারী হিসেবে বসেছেন আমাদের ঘাড়ে। এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এটা মানুষের জন্য অসহনীয় হয়েছে। তিনি এর মাধ্যমে আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, বাংলাদেশকে একটা লুটপাটের সর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। তিনি বহুভাবে আমাদের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান, পদ্ধতি সবগুলোকে তছনছ করে ফেলেছেন। তিনি একটা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটেই একটা গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং জন দাবির মুখে, গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, এরপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটা দায়িত্ব হল একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করা। একই সাথে যেসব নিয়ম পদ্ধতি প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে দানবে পরিনত করেছে এগুলোর সংস্কার করা। এজন্য সরকার ১১ টি সংস্কার কমিশন করেছে। এখন একটা ঐক্যমত কমিশন হয়েছে। যে ঐকমত কমিশনের ভিত্তিতে এখন আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা করছি, আলাপ- আলোচনা করে কতগুলো মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে আমরা একমত হওয়ার চেষ্টা করছি।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ঐক্যমত কমিশনের আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কতগুলো সুপারিশ প্রণয়ন করব। আমরা আশা করি এটা একটা জাতীয় সনদে পরিণত হবে এবং এটা স্বাক্ষরিত হবে। যেটা প্রয়োগ করা, মেনে চলা, রাজনৈতিক দলগুলো মেনে চলতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয় এর বাইরে বহু নাগরিক আছে। তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ মতামত আছে। আমরা সংবিধান সংশোধনের কথা বলছি, কতগুলো মৌলিক সংস্কারের কথা বলছি। সংবিধান হল জনগণের মতামতের প্রতিফলন, জনগণের অধিকারের রক্ষাকবচ। তাই জনগণের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যই আমরা সুজনের পক্ষ থেকে সারাদেশে ১৫ টি এই ধরনের সংলাপের আয়োজন করেছি।
তিনি আরো বলেন, জনগণ মতামত দিতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন হতে হবে, সংবিধানে কি কি পরিবর্তন হতে হবে, নির্বাচনী ব্যবস্থায় কি কি পরিবর্তন হতে হবে, প্রশাসনিক ব্যবস্থা কি কি পরিবর্তন হতে হবে, দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কি কি ব্যবস্থা হতে হবে, পুলিশকে আরো কার্যকর করার জন্য কি কি পরিবর্তন আনা দরকার, এই লক্ষ্যে আমরা ১৫ টি এলাকায় জনগণের মতামত নিচ্ছি। এবং এই মতামতের ভিত্তিতে আমাদের পক্ষ থেকে একটি খরসা জাতীয় সনদ প্রণয়ন করেছি। এর ভিত্তিতে জনগণের মতামত নিয়ে আমরা ঐক্যমত্য কমিশনের সুজনের পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও ঐক্যমত কমিশনের কাছে দেয়া হবে। যাতে ঐক্যমত কমিশন রাজনীতিবিদদের মতামতের পাশাপাশি জনগণের মতামত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেয়। কারণ জনগণের মতামত একটা রাষ্ট্রের নাগরীকে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নাগরিকের মতামতের মাধ্যমে যাতে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ শুগম হয় এবং তার ফলে যেন একটা গণতান্ত্রিক উত্তোরন ঘটে। একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেন প্রতিষ্ঠিত হয়।
আয়োজিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেন। এতে বরিশাল মহানগরী, বিভিন্ন জেলার সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, নারী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



