― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

এডিবি’র বিনিয়োগে ঝুঁকি, বরিশালে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিনিয়োগ ঝুঁকির বিষয়ে বরিশালে নাগরিক সমাজের ব্যানারে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান করা হয়েছে। আজ বেলা পৌনে ১২টার দিকে নগরের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে এ প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, এডিবি খুলনার ১৫০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উন্নীত করতে অতিরিক্ত ১০৪.১১ মিলিযানে ডলার বিনিয়োগ করেছে। অথচ, গত ১১ বছরে এই একটি প্রকল্পের পেছনেই সরকারকে ১,৮২৪ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এডিবি বাংলাদেশে গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে এবং গ্যাস আনার জন্য পাইপলাইনে বিনিয়োগ করেছে অথচ খুলনায় গ্যাসের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবারও তারা রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ করেছে। যার নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে কিন্তু এখানেও গ্যাস আসার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অর্থাৎ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও একটি অচল সম্পদ হিসেবে পড়ে থাকবে। এবং গ্যাসের সাপ্লাই না থাকার কারণে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে।

প্রান্তজন ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী তৌহিদুল ইসলাম শাহজাদা বলেন, “এডিবি ২৮৮৪.৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মোট ৪.৮৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। যার মধ্যে ৮২.৯% অর্থায়ন জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্পে, ২.৫৫% সৌরবিদ্যুতে এবং বায়ু বিদ্যুতে এখন পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগ নেই। প্রতি মেগাওয়াট জীবাশ্য-জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগে ২.০৪ মিলিয়নে ডলার, যেখানে সৌরবিদ্যুত প্রকল্পে তা মাত্র ০.৫১ মিলিয়ন ডলার।

প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণকারী আরো একজন জলবায়ু কর্মী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, তখন এডিবির ফসিল ফুয়েল প্রকল্পে বিনিয়োগ জলবায়ু সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে এবং বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।”

তারা আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব অথচ ফসিল ফুয়েলের উপর নির্ভরতা দেশের অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে।

বক্তারা এডিবিকে আহ্বান জানান, অবিলম্বে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নবায়নযোগ্য শক্তি ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিষয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে।

আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৫৮তম এডিবি বার্ষিক সভার প্রাক্কালে এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আরও বড় পরিসরে চলবে, যাতে এডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থাগুলো তাদের বিনিয়োগ নীতিমালা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও টেকসই উন্নয়নের গুরত্ব অনুধাবন করে।