― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

খাল খননে বদলে যাওয়া এক গ্রামের কথা


মেহেদী হাসান জসীম:
কিছুদিন আগেও গ্রামের পরিবেশে ছিল দারুণ রুক্ষতা। পানির অভাবে কৃষক ফসল ফলাতে পারতেন না। গ্রামের ভেতরে একটি খাল থাকলেও তাতে পানি ছিলনা। ফলে পুরো গ্রাম যেন শুষ্কতা ও রুক্ষতায় ভরে থাকতো সব সময়। হঠাৎ একদিন গ্রামে দানব আকৃতির এক যন্ত্র (এস্কেভেটর) এলো। যন্ত্রের থাবায় অল্পদিনের মধ্যেই মাটি উপরে তুলে ফেলায় পানি আসলো খালে। মুহুর্তেই পুরো গ্রামের পরিবেশ বদলে গেল। কথাগুলো বলছিলেন আবু মেম্বর (সাবেক মেম্বর) নামে এক বৃদ্ধ।

গ্রামের নাম রোলা। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট্ট একটি গ্রাম। উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের মধ্যথেকে প্রবাহিত হয়ে এই রোলা গ্রামে প্রবেশ করেছে ছোট খালটি। সম্প্রতি খালটি খনন হওয়ায় গ্রামের মানুষের মাঝে যেন প্রাণ ফিরেছে। খালটি খননের ফলে মুহুর্তেই যেন বদলে গেছে পুরো এলাকার চিত্র।

গত শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সরেজমিন ওই গ্রামে গিয়ে দেখা মেলে মাসুম হাওলাদার নামে এক বাসিন্দার সাথে। গ্রীস্মের তপ্ত দুপুরে তিনি খালে ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। প্রতিবারই তিনি দু’চারটি করে টেংরা, পুটি, বেলে জাতীয় মাছ পাচ্ছিলেন। এসময় তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেও আমরা পানির অভাবে ফসলের চাষ করতে পারতাম না। সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে প্রচুর খরচ হয়, তাই অনেক জমি অনাবাদি পরে থাকতো। অথচ এখন খালটি খনন হওয়ায় জমি চাষ হচ্ছে। খালে জাল ফেলে পরিবার নিয়ে একবেলা খাওয়ার মতো মাছ পাচ্ছি। এই গরমে গ্রামের মানুষ গোসলসহ সংসারের যাবতীয় কাজ করতে পারছে। সব মিলিয়ে খালটি খনন হওয়ায় এই গ্রামের পরিবেশটাই বদলে গেছে।’

চারপাশে শান্ত একটা পরিবেশ। খালের টলটলে স্বচ্ছ জল, দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসছে আজানের সুর, দক্ষিণের খোলা প্রান্তর থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বয়ে আসা বাতাস, গাছে গাছে পাখির ডাকাডাকি যেন ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করছে এখানে।

কিছু দূর এগোতেই দেখা মেলে আবদুল্লাহ্ আল জায়ান ও সাফওয়ান হাসান মানহা নামে দুই শিশুর সাথে। তাদের নিয়ে খালের পাশে সান বাঁধানো ঘাটে বসে ছবি তুলছেন আলমগীর হায়দার নামে এক সাবেক সেনা সদস্য। তিনি বলেন, ‘প্রচন্ড গরমে বাচ্চারা ঘরে থাকতে চায়না। তাই বাতাসে খালের ঘাটে ওদের নিয়ে এসেছি। সকাল, দুপুর বা সাঁঝের বেলায় এখন ভাল লাগে এখানে। কারণ, এই খাল ও এর পানি প্রবাহ।

জানা যায়, উপজেলার ছয় ইউনিয়নে অনেকগুলো খাল খনন করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানেও বেশকিছু খালের খনন কাজ চলছে। এরমধ্যে রাজাপুর সদরের ভেতর থেকে প্রবাহিত কবিরাজ বাড়ি খালটি অন্যতম। তবে এই খনন কাজে কিছু অনিয়মের কথাও বলছেন খাল পাড়ের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করছেন না ঠিকাদার। খালের গভীরতা ও প্রসস্ততা সঠিক ভাবে হচ্ছেনা। ফলে বর্ষা মৌসুমে আবার এই খালগুলো তার নাব্যতা হারাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৮ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এখন পর্যন্ত উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বহু গ্রামে ছোট ছোট খালগুলোকে খনন করা হয়েছে।’ ‘অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খাল খননে কোন অনিয়মের তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাছাড়া কর্তৃপক্ষ নিয়মিত খনন তদারকি করছেন।’