ডেস্ক রিপোর্টঃ ইয়েমেনের রাস ঈসা তেল বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে। হুথি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সরকারের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৪ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসাবাহি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক ও তেল বন্দরের শ্রমিক।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হুথিদের তেল বিক্রি থেকে অর্থ আহরণ রুখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবে এই হামলা সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে।
আলজাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-আত্তাব জানিয়েছেন, “তেল বন্দরে যখন শ্রমিকরা কাজ করছিলেন, তখনই পরপর চারটি বোমা ফেলা হয়। আতঙ্কে সবাই ছুটোছুটি শুরু করেন।” তিনি জানান, রাস ঈসা বন্দরটি কেবল জ্বালানির নয়, মানবিক সহায়তার দিক থেকেও ইয়েমেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দরের মাধ্যমেই দেশটির ৭০ শতাংশ রপ্তানি এবং ৮০ শতাংশ মানবিক সহায়তা প্রবেশ করে।
এই হামলার পর ইয়েমেনজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়। সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতারা এবং বিভিন্ন সংগঠন হামলাকে ‘গণহত্যার শামিল’ বলে উল্লেখ করেছেন।
হুথি নেতা মোহাম্মদ নাসের আল-আতিফি বলেছেন, “আমাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা ফিলিস্তিনিদের পাশে আছি এবং থাকব।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র আরও আগ্রাসী সামরিক কৌশল নিচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ইয়েমেনে এই হামলা। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকটি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
ইয়েমেনের জনগণ বর্তমানে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি—একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে মানবিক সংকট, তার ওপর যুক্ত হয়েছে এই রক্তাক্ত বিমান হামলা।



