পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে একটি সেতু নির্মাণের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। তাই এলাকাবাসী সেতুর কাঠামোর ওপরে সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করছেন। এতে যেকোন সময় দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, রাঙ্গাবালীর সদর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া ও রসুলবাড়িয়া গ্রামের দুই পাড়ের মানুষকে বিভক্ত করেছে মাদারবুনিয়া খাল । খালের পশ্চিম পাড়ে রসুলবাড়িয়া গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ রয়েছে, কিন্তু পূর্বপাড়ের মাদারবুনিয়া গ্রামটি সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তাই গত দুই বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্দেগ্যে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু দুই দফায় নির্মাণ কাজের সময় বাড়িয়েও তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়রা জানায়, এক সময় রশি টেনে খেয়া নৌকার মাধ্যমে খালটি পারাপার হতে হত। কিন্তু দুর্ঘটনা ঠেকাতে কাঠের একটি সেতু বানানো হলেও তাতে যানবাহনের চলাচল ছিল না। তাই গত দুই বছর আগে লোহার সেতুটি নির্মাণ কাজ শুরু করে এলজিইডি। তবে শুরু থেকেই কাজে তেমন গতি ছিল না। সেতুর কাঠামোর কাজ হলেও এখন বাকি কাজ স্থগিত রয়েছে।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, ঠিকাদারের আবেদনের পর দুই দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তা হয়নি।
রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আবির হোসেন বলেন, সাঁকো পার হতে আমাদের ভয় লাগে। আমরা চাই, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা হোক।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, “দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাঁকো পারাপার করতে হয়। ছোট শিশুরা যেকোন সময় দুর্ঘটনায় পরতে পারে। তাই যতো তারাতারি সম্ভব সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “সেতুর কাঠামোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।”



